২০২৩ হোক আপনার সরকারি চাকরির
স্বপ্ন পূরণের বছর
২০২৩ সাল হোক আপনার জীবনের সাফল্যের বছর;
নতুন কর্মজীবন শুরুর বছর। নতুন বছরে নতুন উদ্যোমে শুরু করুন নতুন করে প্রস্তুতি যাতে
এ বছর আপনি পেতে পারেন আপনার স্বপ্নের সরকারি চাকরি। হাঁসি ফুটাতে পারেন আপনার পরিবার,
আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ শুভাকাঙ্খিদের মুখে। কারণ সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে
দেখাগেছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পদ শুন্য রয়েছে। যা ২০২৩ সালে পূরনের
জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
২০২৩ হতে যাচ্ছে চাকরির বছর
২০২৩ সালে হতে যাচ্ছে চাকরির বছর। কারণ ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরের বেশ কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আবার সামনে নতুন অনেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসতে যাচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো এনটিআরসিএ ৬৮,৩৯০ পদে শিক্ষক নিয়োগ, এলজিইডি ২২৩৭ পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পরিবেশ অধিদপ্তর, সেনাবাহিনী, পুলিশ কনস্টেবলসহ বেশ কিছু বড় সার্কুলার ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (NSI), দুদক, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। তাই বলাই যায় ২০২৩ সাল হবে চাকরির বছর।
লেখাপড়া শেষ করে স্মার্ট একটি ক্যারিয়ার গড়া বর্তমান তরুণ সমাজের একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আপনাকে হতে হবে কৌশলী ও পরিশ্রমী। আপনি ২০২৩ সালেই আপনার সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চান তাহলেই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন। প্রতিদিন রুটিন করে কমপক্ষে ৫-৬ঘন্টা বই পড়ুন। কিছুদিনের জন্য হলেও বাইরে আড্ডা দেওয়া, টিভি দেখা, ফেসবুক ইত্যাদি থেকে দুরে থাকুন। শুধুমাত্র লেখাপড়ায় মন দিন। এসব করার অনেক সময় পাবেন।
মনে রাখবেন আপনি প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে বন্ধুবান্ধবের অভাব হবেনা। আর যদি না পারেন তাহলে নিজের কাছের মানুষেরাও ধীরে ধীরে দূরে সরে যাবে। তাই কষ্ট হলেও অন্তত ২০২৩ সালটা কষ্ট করুন, দেখবেন আপনি অবশ্যই সফল হবেন।
সরকারি চাকরির প্রস্তুতিতে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ
বর্তমান সময়ে সরকারি বে-সরকারিসব চাকরির পরীক্ষায় প্রতিযোগীতা অনেক বেশি। আবার সব ধরনের চাকরির পরীক্ষার জন্যপ্রস্তুতিও
এক নয়। বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন বিভিন্ন। তাই চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরুর পূর্বে আপনাকে সঠিক পরিকল্পনা করে নিতে হবে যে আপনি বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক
নিয়োগ, নাকি মন্ত্রণালয়ের
বিভিন্ন পদের করির জন্য প্রস্তুতি নিবেন। আপনি যদি সবগুলো প্রস্তুতি
একসাথে নিতে যান তাহলে একটিরও প্রস্তুতি ঠিকমত নিতে পারবেন না। তাই আপনাকে সর্বপ্রথম নির্ধারণ করতে হবে আপনি কোন ধরনের চাকরির প্রস্তুতি নিতে চান।
সরকারি চাকরির পরীক্ষার সিলেবাস পেতে ক্লিক করুন
নতুন বছরের শুরুতেই আসছে
প্রাইমারীতে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
নতুন বছরের শুরুতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য মতে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬
সালের মধ্যে নতুন আরও একলক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। তাছাড়া সংগীত ও শরীরচর্চা
শিক্ষক পদে ৫১৬৬ পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। নতুনদের জন্য যা
হবে এক বিরাট সুযোগ।
তাই আপনার যদি শিক্ষক হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করার ইচ্ছা থাকে তাহলে
প্রস্তুতি শুরু করুন এখনই। কারণ চাকরির প্রস্তুতি আপনি কখনো দুই-এক মাসের মধ্যে
শেষ করতে পারবেন না। এরজন্য আপনাকে সঠিক নিয়মে এবং ধৈর্য্য সহকারে প্রচুর পড়াশুনা
করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনকারীদের বেশির ভাগই নিয়োগ পরীক্ষার মানবন্টন
ও সিলেবাস সম্পর্তে তেমন কিছু জানেন না । তাই আজকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার
মানবন্টন ও পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই ।
প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মানবন্টন ও
পরীক্ষা পদ্ধতি
প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা মোট ১০০
নম্বরের হয়ে থাকে। যার মধ্যে লিখিত (এমসিকিউ) ৮০ নম্বর এবং মৌখিক ২০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায়
উত্তীর্ণ হলেই কেবল আপনি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন। বিগত সালের প্রশ্নের
ধরন থেকে বলা যায়, বাংলা থেকে ২০ নম্বর (ব্যাকরণ থেকে ১৬/১৭ নম্বর এবং বাংলা সাহিত্য
থেকে-৩/৪ নম্বর), ইংরেজি থেকে ২০ নম্বর (গ্রামার থেকে বেশি প্রশ্ন হয়ে থাকে), গণিত
থেকে ২০ নম্বর (পাটিগাণিত ৭/৮ নম্বর, বীজগণিত ৬/৭ নম্বর এবং জ্যামিতি ৪/৫ নম্বর) এবং
সাধারণ জ্ঞান থেকে ২০ নম্বর মোট ৮০ নম্বরেরর এমসিকিউ পরীক্ষা হয়ে থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের
মান থাকে ১ এবং ভূল উত্তরের জন্য ০.২৫ মার্ক কাটা যায়। তাই অতি সতর্কতার সাথে উত্তর
দেওয়া উচিত।
প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য ভিজিট করুন
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনাকে মৌখিক
পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। মৌখিক পরীক্ষা হল যে কোন চাকরির চুড়ান্ত ধাপ। যা পার করতে
পারলেই আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।
তাই মৌখিক পরীক্ষার জন্য আপনাকে সঠিক প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রাইমারী ভাইভার জন্য সম্পুর্ণগাইডলাইন ফলো করলে আপনি নিশ্চই সফল হবেন।
প্রথম ভাইভায় নিশ্চিত করুন প্রাইমারীর চাকরি
সরকারি চাকরির প্রস্তুতি শুরু করার সঠিক সময়
আমরা অনেকক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করে থাকি তা হলো লেখাপড়া শেষে চাকরির জন্য প্রস্তুতি শুরু করি। এটা মোটেও উচিত নয়। আপনার যদি তৃতীয় ও চতুর্থ শেণির চাকরির
প্রতি আগ্রহ থাকে তাহলে এইচএসসি পাশের পর থেকেই
চাকরিতে আবেদন শুরু করুন এবং প্রস্তুতি নিন। সেই সাথে আপনার একাডেমিক শিক্ষাও চালিয়ে যান। কারণ বিভিন্ন
অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের এসব চাকরির পরীক্ষা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক থেকে দুই বছর পরেও হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লাগে। তাই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে সঠিক সময়ে, তবেই আপনি অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবেন।
শুন্য থেকে কীভাবে শুরু করবেন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি
অবশেষে
আপনাদের জন্য শুভকমনা রইল। নতুন বছরে আপনাদের নতুন কর্মজীবন শুরু হোক এই প্রত্যাশা
রেখে আজকের মত এখানেই শেষ করলাম। ধন্যবাদ সবাইকে।




